আমরা সাধারণত ডিমের খোসা গুলি
ফেলে দি। কিন্তু
এই ডিমের খোসা দিয়েও
অনেক কিছু ঘরোয়া সমস্যার
সমাধান করা যায়।
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করার সাথে
সাথে ত্বকের যত্নেও ব্যবহার
করা যেতে পারে ডিমের
খোসা। কি,
অবাক হচ্ছেন? অবাক হওয়ার কিছু
নেই।
প্রথমেই
আমাদের জানতে হবে যে
ডিমের খোসায় কি থাকে?
ডিমের খোসায় আছে ৯০
শতাংশ ক্যালসিয়াম, যে কারণে ক্যালসিয়ামের
প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে এটি
অসাধারণ।
পর্যাপ্ত
পরিমাণে ক্যালসিয়াম ছাড়াও ডিমের খোসায়
থাকে আয়রন, কপার, ম্যাঙ্গানিজ,
জিঙ্ক, ফ্লোরিন, ক্রোমিয়াম এবং মলিবডেনাম- এছাড়াও
আরো অনেক যৌগিক উপাদান।
ব্যথা-বেদনা সরাতে কাজে
আসে- দ্রুত জয়েন্টের ব্যথা
উপশম করতে-
ডিমের
খোসায় ক্যালসিয়াম ছাড়াও আছে ম্যাগনেশিয়াম,
গ্লুকোসামিন, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, কোলাজেন। এই
সব যৌগ শরীরের নানা
ব্যথা-বেদনা সরাতে কাজে
আসে | একটি পাত্রে অ্যাপল
সাইডার ভিনেগার এবং একটি ডিমের
খোসা ভেঙ্গে গুঁড়ো করে
নিন। এবার
এটি রেখে দিন যতদিন
পর্যন্ত না ডিমের খোসাগুলো
ভিনেগারের সাথে মিশে না
যায়। মোটামুটি
২ দিন রেখে দিলে
ডিমের খোসাগুলো ভিনেগারের সাথে মিশে যাবে। এরপর
ব্যথার স্থানে এই মিশ্রণটি
ম্যাসাজ করে লাগান।
এই যে কম্পাউন্ড গুলো
বললাম , এই গুলি জয়েন্ট
পেন কমাতে সাহায্য করে। ব্যথা
কমে আরাম পাবেন।
মাটির
উর্বরতা বৃদ্ধি ও পোকামাকড়
দূরে রাখতে সাহায্য করে-
বর্তমানে
অনেকেই বাগান করতে ভালবাসেন। বাড়ির
সামনে, ছাঁদে বা বারান্দার
টপেও গাছ লাগিয়ে থাকেন। গাছ
লাগালে অনেক সময় এতে
নানা রকমের পোকা জন্মায়। সার
যতই দেন না কেন,
পোকা জন্মাবেই বিশেষ করে শামুক
জাতীয় প্রাণীর হাত থেকে গাছকে
বাঁচানোর ঘরোয়া সহজ উপায়
হলো ডিমের খোসা।
এ জন্য ডিমের খোসা
গুঁড়ো করে নিতে হবে। এরপর
এটা টপের চারপাশে ছড়িয়ে
দিতে হবে। তাহলে
গাছ পোকা মাকড়ের হাত
থেকে রক্ষা পারে।
তাছাড়াও ডিমের খোসায় প্রচুর
পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং মিনারেল রয়েছে
যা আপনার বাগানের উর্বরতা
বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।
অঙ্কুর তৈরির কাজে ব্যবহার -
আপনি বাড়িতে গাছ লাগাতে চাইলে সেক্ষেত্রেও ডিমের খোসা খুবই উপকারে আসবে। ডিম ভাঙার সময় মাঝ বরাবর ভাঙতে হবে। এর ভাঙা অংশ নিয়ে এর মধ্যে মাটি দিতে হবে। তারপর যে গাছ লাগাতে চাইছেন সেই বীজ লাগিয়ে রাখুন কিছু দিন। অঙ্কুর বের হলে চারা গাছ টি ডিমের খোসা সহকারে মাটিতে পুঁতে দিন। আসলে এই ভাবে গাছ লাগালে গাছটি ডিমের খোসা থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে।
ডিমের খোসায় মাটি ভরে, যে গাছ লাগাতে চাইছেন সেই বীজ লাগিয়ে রাখুন কিছু দিন। অঙ্কুর বের হলে চারা গাছ টি ডিমের খোসা সহকারে মাটিতে পুঁতে দিন। আসলে এই ভাবে গাছ লাগালে গাছটি ডিমের খোসা থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে।
বাসন-পত্র পরিষ্কার করতে -
ডিমের খোসা দিয়ে অনায়েসেই আপনি রান্নাঘরের বাসনপত্র পরিষ্কারকের কাজটি সেরে ফেলতে পারেন।বাসনপত্রে লেগে থাকা খাবার সরিয়ে ফেলে ডিমের খোসার গুঁড়ো দিয়ে খুব ভালো করে মেজে নিন। দেখবেন খুব সুন্দর স্ক্রাবারের কাজ করছে। বাসনের পোড়া দাগ দূর করতেও ডিমের খোসাকে কাজে লাগান। বাসন ধোয়ার সাবানের সঙ্গে ডিমের খোসা গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। পোড়া দাগ গায়েব হবে সহজে।
চায়ের পাত্রের দাগ -
যে পাত্রে চা বানানো হয় সেখানে চায়ের গাঢ় দাগ হয়ে যায়। সাবানের সঙ্গে একটি ডিমের খোসা ভেঙে চায়ের পাত্রে দিন। এবার জল ঢেলে দিয়ে তা গরম করুন। একটু ঘষে নিন দেখুন পাত্রটি কেমন ঝকঝকে হয়ে উঠেছে।
ময়লা জমে যাওয়া ড্রেন পরিস্কার করতে
অনেকসময় রান্নাঘরের সিঙ্ক এ ময়লা জমে বন্ধ হয়ে যায়। এই সমস্যা করে সমাধান করে দিবে ডিমের খোসা। ডিমের খোসা মিহি গুঁড়ো করে জমা ড্রেনের মধ্যে দিয়ে দিন। তারপর বেশি করে জল ঢেলে দিন। দেখবেন ড্রেন পরিষ্কার হয়ে গেছে।
Comments
Post a Comment