কোয়েল পাখির ডিম খেয়ে থাকি...ডিম খাবার পর ডিমের খোসাগুলো

আমরা প্রায় প্রতিদিনই বাসায় মুরগির/হাঁসের/কোয়েল পাখির ডিম খেয়ে থাকি...ডিম খাবার পর ডিমের খোসাগুলো আমরা ফেলে দিয়ে থাকি...কিন্তু ফেলে দেয়া এই ডিমের খোসার মাঝে আছে নানা ধরনের গুণাবলি...যা আপনার পাখির দেহের নানা ধরনের ঘাটতি পূরণ করে থাকে।আজকে আপনাদের জানাবো ডিমের খোসার উপকারিতা সম্পর্কে-
আমরা বাসা বাড়িতে শখের বসে নানা ধরনের পাখি পালন করে থাকি...এই পাখি গুলো খাঁচায় আবদ্ধ ভাবে পালন করলেও প্রকৃতিতে কিন্তু এরা ঠিকই অবাধে বিচরণ করে থাকে...মুক্তভাবে থাকার কারনে তারা প্রকৃতি থেকে নানা ধরনের উপাদান খেয়ে তাদের দেহের চাহিদা পূরণ করে থাকে...কিন্তু আপনার পাখি খাঁচায় আবদ্ধ অবস্থায় থাকায় তাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না... তাই এদের দেখভালের দায়িত্ব আপনারই।
ডিমের খোসার উপকারিতা- ডিমের খোসার উপাদানগুলোর মাঝে ৯৫% হচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বনেট...৫% ক্যালসিয়াম ফসফেট এবং ম্যাগনেসিয়াম কার্বনেট ও অল্পপরিমানে দ্রবিভুত-অদ্রবিভুত প্রোটিন...যা আপনার পাখির দেহের বিভিন্ন খনিজ উপাদানের অভাব পূরণ করতে পারে।
ব্রিডিং এর সময়ে পাখির দেহে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়ামের অভাব দেখা দেয়।পাখি তার ছোট দেহের তুলনায় বেশিই ডিম দিয়ে থাকে...ফলে তার দেহের ক্যালসিয়ামের অভাব হাড়ের ভিতরে থাকা ক্যালসিয়াম পুরন করে থাকে এতে করে,হাড়ে ক্ষয় দেখা দিতে পারে।তাই এসময় সীড মিক্স ও এগফুডের পাশাপাশি ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণ করতে পারে এমন খাবার যেমনঃ সাগরের ফেনা(ক্যাটল ফিস বোন),মিনারেল ব্লক এগুলোর গুরুত্ব অনস্বীকার্য।আর এক্ষেত্রে ডিমের খোসা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারে। ***বিশেষ করে ফিঞ্চ জাতীয় পাখি...এরা অন্যদের তুলনায় বছরের প্রায় সবসময়ই ডিম-বাচ্চা করে থাকে...দেহের আকার আনুপাতের চেয়ে এদের ডিম দেবার ও বাচ্চা লালন-পালনের হারও বেশি...তাই তাদের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়ামের অভাব অনস্বীকার্য। ডিমের খোসা পাখিকে দেবার নিয়মাবলী- কাঁচা ডিমের খোসা (অবশ্যই দেশি মুরগির) ডিমের কুসুম আলাদা করবার পর ভাল ভাবে পানি দিয়ে ধুইয়ে নিতে হবে...এরপর খোসাগুলো(আপনি যে কয়টি দিতে চান) একটি পাত্রে পানিতে সিদ্ধ করে নেবেন...খেয়াল করবেন খুব বেশি সিদ্ধ যেন না হয়।কেননা খুব বেশি শিদ্ধ হলে উপকারি উপাদান গুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে।সিদ্ধ হয়ে যাবার পর খোসা গুলো পাত্র থেকে নামিয়ে কক্ষ তাপমাত্রায় না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।এরপর খোসা গুলো কে পাটায় পিষে অথবা হামা দিস্তায় দিয়ে ছোট ছোট খণ্ডে পরিনত করুন...অনেকে আবার ডিমের খোসা একদম গুঁড়া করে থাকেন...আমি ছোট ছোট টুকরো করেই দিয়ে দেখেছি... আবার শুধু আপনার পাখিকে পরিবেশনের পালা...আপনি ইচ্ছা করলে আলাদা পাত্রে অথবা যে পাত্রে সীড মিক্স দেন সেটিতেও মিশিয়ে দিতে পারেন... এভাবে সপ্তাহের ২-৩ দিন পাখিকে ডিমের খোসা দিতে পারেন... আশাকরি উপকারে আসবে। ভাল থাকুক আপনার পাখি, বেঁচে থাকুক আপনার শখ

Comments